আজও শোনা হলো না
লেখনিতে ;হিমু
আমার গল্পের নায়ক অনিকেত রহমানের সাথে আজ দেখা হলো । তার সাথে ছিল একটা মেয়ে,হাতে ছিল লাল পদ্ম,পরনে ছিল সাদা রঙের টি শার্ট ও জলপাই রঙের প্যান্ট,,মেয়েটার হাতে একটা পারস,ঠোঁটে লিপস্টিক,চোখে সবুজ রঙের সানগ্লাস, পরনে মেহরুন রঙের আনার কলি ড্রেস,মাথায় কোন কাপড় নেই,খোপায় লাল পদ্ম । আধুনিকতার খনি থেকে যেন উঠে আসল প্রকৃতির অনিন্দ্য সৌন্দর্য তার খোপায়। আমি কিছুই জিজ্ঞেস করলাম না তাদের । হয়তো অনিকেত রহমানের মন গাইতেছিল "মোর পিয়া হবে এস রানী দেব খোপায় তারার ফুল " । সেই জন্যই বোধহয় তার খোপায় পদ্ম ফুল সাজিয়ে দিয়েছেন সযত্নে । এই সৌন্দর্য দেখলে মন্না দে হয়তো গায়তেন "কপলে দেখছি তার লাল পদ্ম যেন দল মেলে ফুটেছে সে সদ্য" ।
মেয়েটির নাম অন্বেষা । তারা বসে আছে রাস্তার দুইধারে বেড়ে উঠা মেহগনি গাছের নিচে । মাথার উপর ভেজা বুনো শালিক,গাছের শীর্ষদেশ থেকে কয়েক ফোটা জমে থাকা পানি পড়ছে তাদের গায়ে । একে অপরের কাধেঁ মাথা রেখে তারা দিগন্তের দিকে তাকিয়ে আছে ।
পাশের একটা চায়ের দোকান থেকে শব্দ আসল "সুপার গাল ফোরাম চায়না "। অন্বেষা প্রায়ই এই গান শুনতো কিন্তু আজ সে এই গান পছন্দ করছে না কারন টা পরিস্কার । । নিজের ভিতরে বেড়ে উঠা স্মার্টনেস কে যেন সে সপে দিয়েছে কারো কাছে । মেয়েটির কালো ঠোঁট বলে দিচ্ছিল সে মন্ড সিগারেট এ আসক্ত । তবুও ব্যাগ থেকে সিগারেট বাহির করল না সে । কারন প্রেম লাভের তৃষ্ণা সব তৃষ্ণাকে অতিক্রম করে ।
আমার গল্পের নায়কের হাতেও আজ নেই গোল্ডলিফ সুইচ । দুইজন দুইজনের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তারা । যেন সাপ ব্যাঙ ধরছে এমন দৃষ্টির প্রকাশ । অনেকক্ষন কথা চললো তবুও কিছুই বলা হলো না ওদের । প্রনয়ের ভাষা শেষ হয়েও কেন জানি শেষ হয় না ।
অবশেষে পূর্ব গগনের সূর্য পশ্চিম গগনে হেলে পড়ল । বারবার পিছু তাকাতে তাকাতে অনিকেত ও অন্বেষা দুটি পথ ধরলেন । আমি দূর থেমে তাদের প্রনয় দেখছিলাম । অন্বেষা চলে যেতেই আমি অনিকেত এর পিছু নিলাম কারন তার কাছে আমার দরকার ছিল । আমার গল্পের নায়ক কিছুটা বৈরাগী ধরনের । উদাসীনতা, বৈরাগ্য তার নিত্য সঙ্গী । পেশায় অনিকেত ডাক্তার তবুও প্রাকটিস না করতে করতে সব ভুলতে চলেছেন । মাঝে একটা সার্জারি করতে গিয়ে মানুষ মেরে ফেলেছেন । গোয়েন্দা বিভাগ রিপোর্ট দিয়েছে ভুলক্রমে ঘটনাটি ঘটেছে । মৃত ব্যক্তিটি ছিল অন্বেষার স্বামী ।
আমার সন্দেহ এটি খুন ছিল নাকি অপচিকিৎসা ছিল ।
সদ্য তিনি ডাক্তারি লাইসেন্স হারিয়েছেন ।তবুও অন্বেষা কেন অত দ্রুত সব শোক মুছে অনিকেত এর প্রেমে পড়ল ।
আমি অনিকেত চরিত্রের লেখক তাকে শাসন করতে পিছু নিলাম । আমি আবার অনিকেত কে প্রনয়ের সময় বিরক্ত করতে পারি না তাই অন্বেষা চলে গেলেই পিছু নিয়েছি ।
আমি অনিকেত কে দাড়াতে বললাম । ও দাড়ালো । কিছু বলব এমন সময় আমাদের থেকে দশহাত দুরে একটা একসিডেন্ট হলো । অনিকেত দৌড়ে গিয়ে ছেলেটি কে ধরে তুলে কাধে করে পুরাতন ডিসপেনসারিতে নিল । আমি আবার ও তার পিছু নিলাম কিন্তু সত্যটা জানবার সুযোগ হলো না ।
আজ সেই বালক সুস্থ তাকে অনিকেত বাসায় পৌঁছে দিবে । মানুষ সাথে থাকলে আমি অনিকেত কে বিরক্ত করি না তাই আবার ও পিছু নিলাম কখন তাকে নির্জনে পাব ।
অনিকেত রহমান অবশেষে ছেলেটাকে বাড়িতে পৌচ্ছে দিয়ে,দুইটা চুরট নিলেন কারন তাকে অনেক পথ যেতে হবে । তিনি মনে করেন সিগারেট জ্বলতে থাকলে পথের দুরত্ব কমে ।
আমি ধূমপানের গন্ধ একদম সহ্য করতে পারি না তাই কাছে গিয়ে ওনাকে কিছু জিজ্ঞেস করতে পারলাম না ।
দুইটা চুরট শেষ হতেই তিনি ঢুকলেন মাঝারি মানের রেস্টুরেন্টে । দ্রুত গরম পরাটা খেয়ে অন্য একটা খরিদ্দার কে দেখিয়ে বললেন উনি নাকি অনিকেত এর বিল দিবে, রেস্টুরেন্টে লোকের ভিড় থাকায় কিছুই শুনতে পারলাম না ।
আড়হর ক্ষেতের বুক চিরে গড়ে উঠা রাস্তায় আমার গল্পের নায়ক চলছে ,সাথে আমার কলম ও চলছে কিন্ত কিছুই শোনা হলো না । কারন জীবনে সব কিছু শুনতে নেই কিমবা শুনতে চেয়েও শোনা হয় না ।
লেখনিতে ;হিমু
আমার গল্পের নায়ক অনিকেত রহমানের সাথে আজ দেখা হলো । তার সাথে ছিল একটা মেয়ে,হাতে ছিল লাল পদ্ম,পরনে ছিল সাদা রঙের টি শার্ট ও জলপাই রঙের প্যান্ট,,মেয়েটার হাতে একটা পারস,ঠোঁটে লিপস্টিক,চোখে সবুজ রঙের সানগ্লাস, পরনে মেহরুন রঙের আনার কলি ড্রেস,মাথায় কোন কাপড় নেই,খোপায় লাল পদ্ম । আধুনিকতার খনি থেকে যেন উঠে আসল প্রকৃতির অনিন্দ্য সৌন্দর্য তার খোপায়। আমি কিছুই জিজ্ঞেস করলাম না তাদের । হয়তো অনিকেত রহমানের মন গাইতেছিল "মোর পিয়া হবে এস রানী দেব খোপায় তারার ফুল " । সেই জন্যই বোধহয় তার খোপায় পদ্ম ফুল সাজিয়ে দিয়েছেন সযত্নে । এই সৌন্দর্য দেখলে মন্না দে হয়তো গায়তেন "কপলে দেখছি তার লাল পদ্ম যেন দল মেলে ফুটেছে সে সদ্য" ।
মেয়েটির নাম অন্বেষা । তারা বসে আছে রাস্তার দুইধারে বেড়ে উঠা মেহগনি গাছের নিচে । মাথার উপর ভেজা বুনো শালিক,গাছের শীর্ষদেশ থেকে কয়েক ফোটা জমে থাকা পানি পড়ছে তাদের গায়ে । একে অপরের কাধেঁ মাথা রেখে তারা দিগন্তের দিকে তাকিয়ে আছে ।
পাশের একটা চায়ের দোকান থেকে শব্দ আসল "সুপার গাল ফোরাম চায়না "। অন্বেষা প্রায়ই এই গান শুনতো কিন্তু আজ সে এই গান পছন্দ করছে না কারন টা পরিস্কার । । নিজের ভিতরে বেড়ে উঠা স্মার্টনেস কে যেন সে সপে দিয়েছে কারো কাছে । মেয়েটির কালো ঠোঁট বলে দিচ্ছিল সে মন্ড সিগারেট এ আসক্ত । তবুও ব্যাগ থেকে সিগারেট বাহির করল না সে । কারন প্রেম লাভের তৃষ্ণা সব তৃষ্ণাকে অতিক্রম করে ।
আমার গল্পের নায়কের হাতেও আজ নেই গোল্ডলিফ সুইচ । দুইজন দুইজনের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তারা । যেন সাপ ব্যাঙ ধরছে এমন দৃষ্টির প্রকাশ । অনেকক্ষন কথা চললো তবুও কিছুই বলা হলো না ওদের । প্রনয়ের ভাষা শেষ হয়েও কেন জানি শেষ হয় না ।
অবশেষে পূর্ব গগনের সূর্য পশ্চিম গগনে হেলে পড়ল । বারবার পিছু তাকাতে তাকাতে অনিকেত ও অন্বেষা দুটি পথ ধরলেন । আমি দূর থেমে তাদের প্রনয় দেখছিলাম । অন্বেষা চলে যেতেই আমি অনিকেত এর পিছু নিলাম কারন তার কাছে আমার দরকার ছিল । আমার গল্পের নায়ক কিছুটা বৈরাগী ধরনের । উদাসীনতা, বৈরাগ্য তার নিত্য সঙ্গী । পেশায় অনিকেত ডাক্তার তবুও প্রাকটিস না করতে করতে সব ভুলতে চলেছেন । মাঝে একটা সার্জারি করতে গিয়ে মানুষ মেরে ফেলেছেন । গোয়েন্দা বিভাগ রিপোর্ট দিয়েছে ভুলক্রমে ঘটনাটি ঘটেছে । মৃত ব্যক্তিটি ছিল অন্বেষার স্বামী ।
আমার সন্দেহ এটি খুন ছিল নাকি অপচিকিৎসা ছিল ।
সদ্য তিনি ডাক্তারি লাইসেন্স হারিয়েছেন ।তবুও অন্বেষা কেন অত দ্রুত সব শোক মুছে অনিকেত এর প্রেমে পড়ল ।
আমি অনিকেত চরিত্রের লেখক তাকে শাসন করতে পিছু নিলাম । আমি আবার অনিকেত কে প্রনয়ের সময় বিরক্ত করতে পারি না তাই অন্বেষা চলে গেলেই পিছু নিয়েছি ।
আমি অনিকেত কে দাড়াতে বললাম । ও দাড়ালো । কিছু বলব এমন সময় আমাদের থেকে দশহাত দুরে একটা একসিডেন্ট হলো । অনিকেত দৌড়ে গিয়ে ছেলেটি কে ধরে তুলে কাধে করে পুরাতন ডিসপেনসারিতে নিল । আমি আবার ও তার পিছু নিলাম কিন্তু সত্যটা জানবার সুযোগ হলো না ।
আজ সেই বালক সুস্থ তাকে অনিকেত বাসায় পৌঁছে দিবে । মানুষ সাথে থাকলে আমি অনিকেত কে বিরক্ত করি না তাই আবার ও পিছু নিলাম কখন তাকে নির্জনে পাব ।
অনিকেত রহমান অবশেষে ছেলেটাকে বাড়িতে পৌচ্ছে দিয়ে,দুইটা চুরট নিলেন কারন তাকে অনেক পথ যেতে হবে । তিনি মনে করেন সিগারেট জ্বলতে থাকলে পথের দুরত্ব কমে ।
আমি ধূমপানের গন্ধ একদম সহ্য করতে পারি না তাই কাছে গিয়ে ওনাকে কিছু জিজ্ঞেস করতে পারলাম না ।
দুইটা চুরট শেষ হতেই তিনি ঢুকলেন মাঝারি মানের রেস্টুরেন্টে । দ্রুত গরম পরাটা খেয়ে অন্য একটা খরিদ্দার কে দেখিয়ে বললেন উনি নাকি অনিকেত এর বিল দিবে, রেস্টুরেন্টে লোকের ভিড় থাকায় কিছুই শুনতে পারলাম না ।
আড়হর ক্ষেতের বুক চিরে গড়ে উঠা রাস্তায় আমার গল্পের নায়ক চলছে ,সাথে আমার কলম ও চলছে কিন্ত কিছুই শোনা হলো না । কারন জীবনে সব কিছু শুনতে নেই কিমবা শুনতে চেয়েও শোনা হয় না ।
No comments:
Post a Comment